
নাই বা আসুক পদক। তবু দীপা কর্মকার যা জেতার জিতে নিয়েছেন। জিতে নিয়েছেন গোটা দেশের হৃদয়। জিতে নিয়েছেন সুনাম। ট্যুইটে, ফেসবুকে ওয়ালে প্রশংসা আর শুভেচ্ছার ঢল। কিন্তু কদিন আগেও ত্রিপুরার যে মেয়েটা সবার অলক্ষ্যে হাজার প্রদুনোভা অনুশীলন করে গেছেন। তাঁকে সেভাবে ক’জনই বা চিনতেন! নামটাই তো শেষ কয়েকদিনে চিনল সকলে। এ দুর্ভাগ্য দীপার নয়। আমাদের সকলের। ক্রিকেটের মত হাতে গোনা দু’একটি খেলার বাইরেও যে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা রাখেন, তা বোধহয় আমরা বিশ্বাস করিনা। স্বাধীনতা দিবস ৭০ বছরে পা দিলেও মনের স্বাধীনতাটা এখনও বেশ কিছু ধরাবাঁধা খেলা আর খেলোয়াড়ের নামের মধ্যেই গোল গোল ঘোরে। অলিম্পিকের ময়দানে ভল্টে দীপা চতুর্থ হলেও দীপার সাফল্য সোনা জয়ীর চেয়েও বেশি। কারণটা বোধহয় পরিকাঠামো। মার্কিন মুলুক বা ইউরোপে একজন প্রতিভাকে টেনে তোলার জন্য যে পরিকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তার সবটুকু দীপা পেলে রবিবার রাতের ফলাফলটা ঠিক কী হত তা বুকে হাত দিয়ে ভারতীয় ক্রীড়ার দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা বলতে পারবেন তো! দীপা যা করে দেখিয়েছেন তা ফের একবার প্রমাণ করল ভারতে খেলাধুলোয় কিছু করে দেখাতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, একা লড়ার ক্ষমতা থাকা দরকার। পরিবারের সেই ব্যয়ভার টানার ক্ষমতা থাকা দরকার। কারণ ক্রিকেটে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও, জিমন্যাস্টিকসের মত ক্রীড়ায় এক টাকা খরচ করতে গেলেও পাঁচবার ভেবে দেখা হয়। তবু দীপারা লড়েন। কিছু করে দেখান। কিন্তু ভারতের কোণায় কোণায় এমন কত দীপাই লুকিয়ে থাকেন। অচিরেই হারিয়ে যান। কেউ তাঁদের খবর রাখে না। এই ধারা যতদিন বজায় থাকবে ততদিন শূন্য হাতে অলিম্পিকের মত আসর থেকে ফেরার ধারাও বজায় থাকবে। এ খামতি ক্রীড়াবিদদের নয়, আমাদের ভাবনার। আমরা পাকা ফল চাই। ফলকে সঠিকভাবে পাকানোর জন্য সময় বা অর্থ ব্যয়ে আমাদের প্রবল আপত্তি। যতদিন এই ভাবনা না বদলাবে, ততদিন পদকের আসা করাটা শুধু দুরাশাই নয়, দুঃসাহসও।