শপথমঞ্চে আমন্ত্রিত নেতাসমাগম থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনা আরও উস্কে দিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সেরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানান অ-কংগ্রেসি, অ-বিজেপি দলগুলিকে এক ছাদের তলায় এনে ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনের কথা তিনিই প্রথম বলেছিলেন। এখনও ফেডারেল ফ্রন্টে তাঁর যে আপত্তি নেই সেকথা আকারে ইঙ্গিতে পরিস্কার করে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যদি ফেডারেল ফ্রন্ট হয় তার পাশে তিনি থাকবেন বলেও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। তবে আগামী দিনে রাজ্যের কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তাই সামনে থেকে কিছু করার মত সময় দেওয়ার অসুবিধা রয়েছে বলেও পরিস্কার জানিয়েছেন মমতা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসে জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা ফেডারেল ফ্রন্টের জল্পনাই উস্কে দেননি, সেইসঙ্গে ফ্রন্ট হলে মমতাকে দলনেতা করার সম্ভাবনাও উস্কে দিয়ে গেছেন। আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব এদিন সরাসরিই ফেডারেল ফ্রন্ট গড়তে সমমনভাবাপন্ন দলগুলিকে বৈঠকে বসার ডাক দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা মমতা এখনই এভাবে সামনে থেকে ফ্রন্ট গঠনে যেতে অনিচ্ছুক। তাই সময়াভাবের কথা আগেই বলে রাখলেন তিনি। যে সাহায্য চাইবে তাকেই তিনি যথাসম্ভব সাহায্য করবেন বলেও এদিন জানিয়েছেন মমতা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে আসলে মমতা একটা সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই মুহুর্তে তিনি সব দলের সঙ্গে সদ্ভাব ও সমদূরত্ব বজায় রাখার নীতি নিয়েই এগোতে চাইছেন বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এদিন কার্যতই ফেডারেল ফ্রন্টের জলছবি ফুটে উঠেছে সকলের সামনে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝির উপস্থিতি এদিন ফ্রন্টের জল্পনাকে উস্কে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। ২০১৯-এ মোদীর অগ্নিপরীক্ষা। তার আগে মমতার শপথগ্রহণকে সামনে রেখে বাছাবাছা নেতা সমাগম বিজেপির কপালের ভাঁজ আরও গভীর করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা।
Leave a Reply