
খরা কাটিয়ে ইডেনের মাটিতেও পাকিস্তানকে হারিয়ে দিল ভারত। অক্ষুন্ন রাখল বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে সবসময় পরাজিত করার রেকর্ডও। তবে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যে ভারতকে পৌঁছে দেওয়ার সিংহভাগ কৃতিত্বই যাচ্ছে বিরাট কোহলির ঝুলিতে। পরপর ৩ উইকেট হারিয়ে যখন ভারতের আশা অনেকটাই ক্ষীণ, তখনই শুরু হয় ম্যাজিক। বিরাট কোহলি আর যুবরাজ সিং-এর যুগলবন্দিতে ক্রমশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে ভারত। প্রায় হারা ম্যাচে ক্রমশ জয়ের আশা ক্ষীণ থেকে স্পষ্ট হতে থাকে। ২৩ বলে ২৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে যুবরাজ যখন আউট হয়ে প্যাভেলিয়নের পথে তখন ভারতের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। দরকার ছিল বিরাট কোহলির ক্রিজে টিকে থাকা। আর নতুন ক্রিজে আসা ধোনির তরফ থেকে উইকেট না হারিয়ে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে যাওয়া। আর এই দুই শর্তপূরণে কোনও ঝুঁকি নেননি ভারতের দুই পেশাদার তারকা। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। ওভার যত গড়িয়েছে ক্রমশ চওড়া হয়েছে ধোনির হাসি, আর শুকিয়েছে আফ্রিদির মুখ। ১৩ বল বাকি থাকতেই সহজ জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। তবে যে জয়টাকে এতটা সহজ বলে মনে হচ্ছে হয়তো বিরাট না থাকলে তা এতটা সহজ হত না। বিরাটের ৩৭ বলে ৫৫ রানের স্বপ্নের ইনিংস ইডেনের মাটিতে পাকিস্তানকে হারাতে না পারার খরা এদিন কাটিয়ে দিয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বিরাট কোহলি। তবে কঠিন পিচে পাকিস্তানকে লড়ার মত জায়গা করে দেওয়ার জন্য ধোনির ভুল সিদ্ধান্তের দিকেই আঙুল তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। বোলিং সহায়ক পিচের কারণে যখন পাক ব্যাটিং রান বাড়ানোর জন্য হাঁকপাক করছে, ঠিক তখনই অশ্বিন, রায়না বা যুবরাজের মত বোলারদের বসিয়ে রেখে হার্দিক, বুমরাহদের দিয়ে চার ওভার পুরো বল করান ভারত অধিনায়ক। তার ফলও হল মারাত্মক। এই দুই বোলারকে প্রাণের সুখে মারলেন শোয়ব মালিক ও উমর আকমল। দুজনেই দীর্ঘদিন পাকিস্তানের হয়ে খেলছেন। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও অনেক। তাই ভারতীয় স্কোয়াডের দুই অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ বোলারকে তুলোধোনা করতে তাঁদের অসুবিধা হয়নি। বরং ওই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে তাঁরা পাক স্কোরবোর্ডকে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছে দেন। ১৮ ওভারে বেঁধে দেওয়া বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভারতকে জেতার জন্য পাকিস্তান ১১৯-এর চ্যালেঞ্জিং স্কোর খাড়া করে দেয়। ব্যাট করতে নেমে প্রথম দু ওভারে রোহিত শর্মাকে আত্মবিশ্বাসীই লাগছিল। কিন্তু তৃতীয় ওভারের শুরুতেই পাওয়ার প্লের সুযোগকে কাজে লাগাতে গিয়ে কাঁচা শটে আউট হয়ে যান তিনি। রোহিতের আউট থেকে শিক্ষা নেওয়া দূরে থাক, ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ শুরুতেই ঝোড়ো ইনিংসের লোভে পরপর শিখর ধাওয়ান ও রায়নার উইকেট হারিয়ে অপ্রয়োজনীয় চাপে পড়ে যায়। যুবরাজ নেমে যুগলবন্দী বাঁধেন বিরাট কোহলির সঙ্গে। তারপরটা পুরোটাই রূপকথা। চর্মচক্ষে যার সাক্ষী হয়ে রইল কাণায় কাণায় পূর্ণ ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্স।