
ইডেনে লড়ে হারল ভারত। জিততেই পারত। কিন্তু চাপের মুখে খেলা বার করার অভিজ্ঞতার অভাব ম্যাচ হাতছাড়া করে দিল। মন খারাপ হল কলকাতার। তবে শহরের ক্রিকেটপ্রেমীরা জমাটি লড়াই উপভোগও করলেন তারিয়ে। এদিন টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান বিরাট কোহলি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। তবে হঠকারী শট নয়। বরং তারা ইনিংস গড়েছে দায়িত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে। যার ফলে ব্রিটিশ বাহিনীর উপরের ৬ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে ৫ জনই রান পান। যা ইংল্যান্ডকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়।
অন্যদিকে ভারতের কোনও বোলারই তেমন ছাপ রাখতে পারেনি। বরং অতিরিক্ত রানের কোটায় ইংল্যান্ডকে ১৭ রান দান করেন ভারতীয় বোলাররা। আর তা যে কতটা ভয়ংকর হয়েছে তা এদিন খেলার শেষ মুহুর্তে এসে হাড়ে হাড়ে টের পেল ভারত। ৩২১ রানের বিশাল ইনিংস তাড়া করতে নেমে ভারতের ওপেনার অজিঙ্কা রাহানের উইকেট দ্রুত পড়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন কে এল রাহুল। বিরাট ২ বার বেঁচে অর্ধশতরানের ইনিংস উপহার দিলেও বাজে শট মেরে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নমুখো হন। যুবরাজ-ধোনি জুটি বাঁধলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। যুবরাজ আউট হয়ে যাওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন কেদার যাদব।
প্রথম ম্যাচে ভেল্কি দেখানোর পর এদিনও সেই একই আক্রমণাত্মক কেদার। ধোনি আউট হওয়ার পর যখন ম্যাচ ভারতের হাতছাড়া বলেই ধরে নিচ্ছেন সকলে ঠিক সেই সময়ে হার্দিক পাণ্ডিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন কেদার। অন্যদিকে ওয়ান ডে-তে জীবনের প্রথম হাফসেঞ্চুরি করে দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেন হার্দিক। এরপর এক এক করে উইকেট পড়লেও জেতার জন্য শেষ ওভাবে ৬ বলে ১৬ রান বাকি থাকতে কেদার ফের ভেল্কি দেখান। ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ও পরের বলে চার মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ৪ বলে ৬ রানে। যা বাস্তবে তোলাটা নেহাতই কোনও শক্ত কাজ ছিলনা।
চার, ছয়ের রাস্তায় না হেঁটে অভিজ্ঞতা থাকলে এক-দুই রানের রাস্তায় যেতেন কেদার। কিন্তু তা না করে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৯০ রানে আউট হয়ে যান কেদার যাদব। ফলত সহজ জয়ের মুখে পৌঁছেও হারতে হয়েছে ভারতকে। এদিন শেষ পর্যন্ত ভারতকে জিত এনে দিতে না পারলেও কেদার যাদবকেই ম্যান অফ দ্যা সিরিজ নির্বাচিত করা হয়। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস।