রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। দাঁড়িপাল্লার মত ম্যাচ কখনও এদিকে তো কখনও ওদিকে। অবশেষে একটা ছয়। এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স সমর্থকদের মুখে চওড়া হাসি। ধোনির পুনেকে ২ উইকেটে হারিয়ে আইপিএল তালিকার শীর্ষস্থানটা ধরে রাখল কেকেআর। তবে খেলার শেষের দিকে দুর্বল হৃদয় কেকেআর সমর্থকদের জন্য একটা সতর্কবার্তা বোধহয় জরুরি ছিল। কারণ যে কোনও মুহুর্তে হৃদপিণ্ডের ধুকপুকুনি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল ম্যাচে। যা উমেশ যাদবের ছয় মারা পর্যন্ত বজায় ছিল। এদিন টস জিতে প্রথমে পুনেকে ব্যাট করতে পাঠায় কলকাতা। সিদ্ধান্তটা খুব খারাপ ছিল না বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। কারণ প্রথম থেকেই পুনেকে চাপে রেখেছিল কলকাতা। নিয়মিত উইকেট পতন পুনেকে আরও ব্যাকফুটে ফেলে দেয়। ১৫ ওভারের শেষে যখন কার্যত রাহানের চওড়া ব্যাটে ভর করে পুনে কোনোক্রমে ১০০ রান ছোঁয় তখনও ১৩০ রানের মধ্যেই পুনেরে আটকে রাখা খাতায় কলমে নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। ঠিক সেইসময়েই আচমকা জ্বলে ওঠে পুনে। মর্কেলের পরপর দুটো ছয় খেলার ছন্দই বদলে দেয়। ঝিমিয়ে থাকা দলটা কোথা থেকে যেন হঠাৎ ফিরে পায় চার, ছয়ের মজা। যে ধোনি পরপর ম্যাচে নিজের ফর্মের ধারে কাছেও ব্যাট করতে পারছিলেন না, সেই ধোনিই শেষ ওভারে দলকে ১৭ রান পাইয়ে ১৬০ রানের একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে খাড়া করে দেয় গম্ভীরের কলকাতাকে। পক্সে আক্রান্ত মণীশ পাণ্ডের না থাকাটা কলকাতার ব্যাটিং লাইনআপের জন্য সকাল থেকেই সুখবর ছিল না। তবু গম্ভীর, উত্থাপ্পা, সূর্যকুমাররা তো আছেন। ১৬১ তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান দুরন্ত ফর্মে থাকা উত্থাপ্পা। প্রথমেই বড় ধাক্কা। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে প্রথম ওভারেই তিনখানা চার মেরে চাপটা অনেকটা কাটিয়ে দেন গম্ভীর আর সূর্যকুমার। কিন্তু সে সুখ স্থায়ী হয়নি। নিজের হঠকারী সিদ্ধান্তে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান ক্যাপ্টেন। নড়বড় করতে করতে আউট হন সাকিব উল হাসানও। কিন্তু ততক্ষণে কলকাতার সমর্থকেরা বুঝে গেছেন সূর্যকুমার যতক্ষণ ক্রিজে আছেন ততক্ষণ আশা আছে। সূর্যকুমার আর পাঠানের ব্যাটে ভর করে অনেকটা ভাল জায়গায় পৌঁছে যায় কেকেআর। কিন্তু তখনই ছন্দপতন। পরপর দু’ ওভারে আউট পাঠান ও সূর্যকুমার। রাসেল এসে আবার কিছুটা ঘোরান ম্যাচের মোড়। কিন্তু সেও সাময়িক। অবশেষে চার বলে পাঁচ রান করতে হবে এই অবস্থায় কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে দাঁড়ি টেনে দেন উমেশ যাদব। খেলার শেষে কার্যতই হতাশ দেখিয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। টানা চার ম্যাচ হারার ধাক্কা যে তিনি সামলে উঠতে পারছেন না তা বোঝা যাচ্ছিল তাঁর চেহারা দেখেই। দলের ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, কোনও বিভাগ নিয়েই যে তিনি সন্তুষ্ট নন খোলাখুলি জানিয়েও দিয়েছেন ধোনি। কলকাতার পরের খেলা মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। এখনও পর্যন্ত একটাই হার হজম করতে হয়েছে শাহরুখের ছেলেদের। তা মুম্বইয়ের কাছেই। ফিরতি ম্যাচে কী তবে বদলা নিতে পারবে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কেকেআর। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
Leave a Reply