
কলকাতাকে হেলায় হারিয়ে প্রথম চারে ঢোকা প্রায় পাকা করে নিল গুজরাট। এদিন টস থেকে শেষ পর্যন্ত খেলা দেখে মনে হয়েছে খালাটা উপলক্ষ্য মাত্র। আসলে হারতেই মাঠে নেমেছিল গম্ভীরের দল। পুরো খেলাটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মত করে কেকেআরকে নিয়ে খেলা করেছে রায়নারা। অন্যদিকে বড় দলের সামনে পড়ে সাধারণ দলের যেমন দশা হয় এদিন সেভাবেই সব দিক থেকে শুধু হারের জন্য প্রহর গুনেছে কেকেআর। টস জিতে এদিন কানপুরের ময়দানে কলকাতাকে প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠায় গুজরাট লায়ন্স। সিমার সহায়ক হাল্কা সবুজ ঘাসে মোড়া উইকেট। এখানে যে বিশাল রানের ইনিংস দেখা যাবে না তা মেনে নিচ্ছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। প্রথমে ব্যাট করতে নামার পর উত্থাপ্পা-গম্ভীর জুটি টার্নিং উইকেটেও পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে শুরুটা খারাপ করেন নি। কিন্তু তা বেসিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গৌতম গম্ভীর রান আইট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার পর মাঠে আসেন মণীশ পান্ডে। ভরসাযোগ্য ব্যাটসম্যান। কিন্তু দ্রুত ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হয়ে যান মণীশ। তারপর আয়ারাম গয়ারামের মত পর পর প্যাভিলিয়নে ফিরে যান সাকিব উল হাসান, পীযূষ চাওলা। অল্প রান। হাতে মাত্র পাঁচ উইকেট। মাঠে তখন খেলায় ফেরার চেষ্টা শুরু করেন ইউসুফ পাঠান,সূর্যকুমার জুটি। কিছুটা সফলও হয়। বেশ কয়েকটা চার, ছয়ের হাত ধরে ১০০ রানের গণ্ডি পার করেন দুজনে। কিন্তু খেলায় যখন এই দুটি খুলে ব্যিটং করতে শুরু করেছেন তখনই সহজ ক্যাট তুলে দেন সূর্যকুমার। শেষ আসা ছিলেন ইউসুফ। কিন্তু ১৯ তম ওভারে ইউসুফের ক্যাচ ধরে সেই আসায়ও জল ঢেলে দেন গুজরাট ক্যাপ্টেন সুরেশ রায়না। শেষে দিকে কার্যতই ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বল ছাড়েন সুনীল নারিন। ফলে কলকাতার স্কোর ১২৪ রানেই আটকে যায়। হ্যামস্ট্রিং-এ চোট লাগা আন্দ্রে রাসেলের ম্যাচে না থাকা যে কেকেআরের জন্য কতটা ভয়ংকর হল তা এই স্কোর থেকেই পরিস্কার। ১২৫ রানে জয়ের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে শক্তিশালী গুজরাট। ছোট টার্গাগ। বিশাল ব্যাটিং লাইনআপ। ফলে শুরুতেই উইকেট পড়ার ধাক্কাকে তোয়াক্কার নজরেই নেয়নি গুজরাট।বরং শুরু থেকেই চার, ছয়ের রাস্তায় হাঁটে তারা। এরপর ম্যাককালাম ও দীনেশ কার্তিক প্যাভিলিয়নে ফিরলেও খেলাকে হেলায় জয়ের পথে নিয়ে যেতে কোনও চাপ পড়েনি সুরেশ রায়না বা ফিঞ্চের ওপর। বরং তেমন প্রয়োজন না থাকলেও রান রেট বাড়ানোর কথা মাথায় রেখে কলকাতার বোলারদের তুলোধোনা করতে দেখা যায় তাঁদের। যারফলে খুব দ্রুতই টার্গেটের কাছে পৌঁছে যান তাঁরা। গুজরাটের ৯৭ রানের মাথায় রান আউট হয়ে যান ফিঞ্চ। রায়নাকে সঙ্গত দিতে মাঠে নামেন জাদেজা। এরপর টুক টুক করে খেলেও ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় রায়নারা। এদিনের হারের পর প্রথম চারে যাওয়ার আসা কেকেআরের জন্য অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গেল। লিগের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে কেকেআরের প্রতিপক্ষ তালিকার শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ। খেলা রবিবার বিকেল চারটেয়।