
প্রথমে ব্যাট করে কলকাতা করেছিল ২০০ রান। আর তাড়া করতে নেমে দিল্লির সব উইকেট পড়ে গেল ১২৯ রানেই। তাও মাত্র ১৪.২ ওভারের মধ্যেই। কলকাতা ম্যাচ জিতল ৭১ রানে। এই হল এদিনের ইডেনের সন্ধের মোদ্দাকথা।
সোমবার ভরা ইডেনে টস জিতে দিল্লির অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর কলকাতাকে ব্যাট করতে পাঠান। ব্যাট করতে নেমে পিঞ্চহিটার নারিন এদিন সফল হতে পারেননি। নারিন ১ রানে ফিরলেও পাওয়ার প্লে-কে কাজে লাগান ক্রিস লিন ও রবীন উত্থাপ্পা। লিন ৩১ ও উত্থাপ্পা ৩৫ রানে ফিরলে ম্যাচের হাল ধরেন অধিনায়ক কার্তিক ও নীতীশ রাণা। কার্তিক রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও মাত্র ১৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এবার জুটি বাঁধেন নীতীশ রাণা ও কলকাতার পরিত্রাতায় পরিণত হওয়া আন্দ্রে রাসেল। এই দুজনের যুগলবন্দি খেলার চেহারাই বদলে দেয়। রাসেলের একের পর এক ছক্কা হাঁকানো বিধ্বংসী ইনিংসের সামনে কেমন যেন দিশেহারা লাগছিল দিল্লিকে। মাত্র ১২ বলের একটা স্বপ্নের ইনিংস খেলে রাসেল করেন ৪১ রান। ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেন ১২ বলের ব্যবধানে। ৬টি ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে যিনি এদিন কলকাতাকে একদিকে দাঁড়িয়ে থেকে জেতার দিকে অনেকটা এগিয়ে দেন তিনি নীতীশ রাণা। তাঁর ৫৯ রানের ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষ ওভার কাজে লাগাতে না পারলেও কলকাতা ৯ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান ছুঁয়ে ফেলে।
২০১ রান করলে জিতবে এই অবস্থায় ব্যাট করতে নেমে দলগত ২৪ রানের মধ্যেই জেসন রয়, শ্রেয়স আইয়ার, গৌতম গম্ভীরের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি। এরপর ম্যাচ বাঁচানোর মরিয়া লড়াই শুরু করেন ঋষভ পন্থ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দুজনের যুগলবন্দিতে রানও উঠছিল ভালই। একসময়ে মনে হচ্ছিল এঁরা দুজন শেষ পর্যন্ত টিকে গেলে ম্যাচ দিল্লি জিতেও নিতে পারে। আর ঠিক এই অবস্থায় ছয় মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়ে যান ঋষভ পন্থ (৪৩)। সামান্য সময়ের ব্যবধানে ফেরেন রাহুল তেওয়াতিয়া। এরপর ম্যাক্সওয়েলও ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়ার পর কলকাতার জয়টা ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে সেই জয়কে আরও তরান্বিত করে দিল্লির ৫ ব্যাটসম্যানের ১০ রান ছুঁতে না পারা। ফলে মাত্র ১২৯ রান করে সব উইকেট হারায় দিল্লি। ম্যাচ হারে ৭১ রানে। দিল্লিকে হারানোর একটা রেকর্ড রয়েছে কলকাতার। সেই ধারা এদিনও অক্ষুণ্ণ রইল। এদিকে এদিনের ম্যাচের পর পার্পল ক্যাপের অধিকারী হলেন কলকাতার সুনীল নারিন। এখনও পর্যন্ত তিনিই এবারের আইপিএলের সর্বাধিক উইকেট প্রাপক। একইসঙ্গে এদিনই কলকাতার হয়ে ১০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন সুনীল। এদিন প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন নীতীশ রাণা।