
কাটমানি ফেরতের দাবিতে বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভ। কাটমানি যারা নিয়েছিলেন তাঁদের কয়েকজন সেই টাকা ফেরতও দিয়েছেন। কিন্তু শুধু কাটমানি ফেরত দিলেই হবে না, যাঁরা যাঁরা কাটমানি নিয়েছেন তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এই দাবিকে সামনে রেখে এদিন যুব কংগ্রেসের লালবাজার অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হল বৌবাজারে। বন্ধ হয়ে গেল যান চলাচল। চরম সমস্যার শিকার হলেন সাধারণ মানুষ।
বুধবার যুব কংগ্রেসের লালবাজার অভিযানের মিছিল বৌবাজার ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের মুখে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে পড়ে। হাল্কা ব্যারিকেড কয়েক হাতে গোনা পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে যুব কংগ্রেস কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান। এরপরই ফিয়ার্স লেনের মুখে পুলিশের বড়সড় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। জল কামান প্রস্তুত থাকলেও পুলিশ তা ব্যবহার করেনি। এখানে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় যুব কংগ্রেস কর্মীদের। যুব কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় শুয়ে পড়েন। তবে ব্যারিকেড ভাঙতে সক্ষম হননি তাঁরা।
রাস্তায় শুয়ে পড়া যুব কংগ্রেস কর্মীদের একে একে চ্যাংদোলা করে তুলে প্রিজন ভ্যানে তোলা শুরু করে পুলিশ। এই সময় প্রবল প্রতিরোধ তৈরি করার চেষ্টা চালান যুব কংগ্রেস কর্মীরা। একে অপরকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের হাত ছাড়িয়ে নিজেকে মুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যায় অনেককে। অবশ্য এদিন পুলিশ যথেষ্ট তৎপর ছিল। এ ধরনের আন্দোলন প্রতিহত করতে যা ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার প্রশাসনিক তরফে তা গ্রহণ করা হয়েছিল।
এদিনের লালবাজার অভিযানে যুব কংগ্রেসের মহিলা কর্মীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতন। তাঁরাও রাস্তায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁদের একে একে তুলে আনতে হিমসিম খান। চলে তুমুল ধস্তাধস্তি। প্রায় আধঘণ্টা এমন চলার পর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বহু যুব কংগ্রেস কর্মীকে এদিন গ্রেফতার করে পুলিশ।