
ব্রেন ডেথ হয়ে গিয়েছে। বাঁচার সম্ভাবনা নেই। বাঁচানোর আর কোনও রাস্তাই খোলা নেই। চিকিৎসকেরা এই নিদান হাঁকার পর কোমায় চলে যাওয়া সত্তোরোর্ধ শোভনা সরকারের ছেলে প্রসেনজিৎ সরকার সিদ্ধান্ত নেন মায়ের চোখ ও কিডনি দান করবেন তিনি। সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পরই শুরু হয় উদ্যোগ। খবর দেওয়া হয় স্বাস্থ্য দফতরে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাইপাসের ধারে হাসপাতালে ভর্তি শোভনাদেবীকে এসে পরীক্ষা করে যান চিকিৎসকেরা। পরীক্ষার পর তাঁর দেহ থেকে অঙ্গ নেওয়ায় আপত্তি জানাননি তাঁরা। এরপর ঠিক হয় শোভনাদেবীর দুটি কিডনির একটি দেওয়া হবে রামগড়ের বছর ৩০-এর কেয়া রায়কে। তাঁর দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যাওয়ায় পরিবারের তরফে বহু দিন ধরেই চলছে কিডনির খোঁজ। অবশেষে বেলভিউ নার্সিং হোমে শোভনা দেবীর কিডনি প্রতিস্থাপিত হল কেয়া রায়ের দেহে। অপর কিডনিটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে কাশীপুরের দরিদ্র পরিবারের যুবক ফিরোজের দেহে। ফিরোজের পরিবারের দাবি, এতদিন সপ্তাহে একদিন করে ফিরোজের ডায়ালিসিস করতে হত। ডায়ালিসিসের খরচ সামলাতে পাড়ার লোকেরাই টাকা তুলে দিতেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? তাই ক্রমশ আশা ছাড়তে শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শোভনাদেবীর কিডনি ফিরোজের জীবন ফিরিয়ে দেওয়ায় আপ্লুত গোটা পরিবার। শোভনা সরকারের দুটি চোখের কর্নিয়াই সংরক্ষিত করেছে কলকাতার একটি অন্যতম চক্ষু চিকিৎসা হাসপাতাল। কোন দুজনকে এই কর্নিয়া দান করে তাঁদের দৃষ্টি ফেরানো হবে তাও ঠিক হয়ে গিয়েছে। তবে এই মহৎদানের পরও প্রসেনজিৎ সরকারের আক্ষেপ এ রাজ্যে হৃদযন্ত্র সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। থাকলে মায়ের হৃদযন্ত্রও দিয়ে দিতে রাজি ছিলেন তিনি। প্রসেনজিৎবাবু আরও ক্ষোভ মায়ের অঙ্গ নিয়ে পিয়ারলেস হাসপাতাল থেকে বেলভিউ পর্যন্ত পৌঁছতে তাঁর সময় লাগে ৪৫ মিনিট। কিন্তু একটি গ্রিন করিডর থাকলে তাঁর এই সময়টা নষ্ট হত না। ভয় থাকতো না অঙ্গ নষ্ট হওয়ার। সরকার পরিবারের এমন মহৎ দানে ৪ জন মানুষের জীবন ফিরে পাওয়ার কাহিনি বহু মানুষকে অঙ্গ দানে উদ্বুদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সকলে।