
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল সল্টলেকের কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে। বেআইনিভাবে টাকা তোলা সহ তিনটি জামিন অযোগ্যধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এদিন বিধাননগর আদালতে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে পেশ করা হলে তার জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন বিচারক। তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সূত্রের খবর, দলীয় কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের তোলাবাজির অভিযোগ কানে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তার গ্রেফতারিতে উদ্যোগী হন। দলীয় নেতানেত্রীদের কাছে এদিয়ে একটা বার্তাও পৌঁছে দেন তিনি। দলের মধ্যে এধরণের অসাধু কার্যকলাপ তিনি যে বরদাস্ত করবেন না তাও পরিস্কার করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, পেশায় ব্যবসায়ী বিডি ব্লকের বাসিন্দা সন্তোষ লোধ তাঁর বাড়ি মেরামত ও সম্প্রসারণ শুরু করেন গত মার্চ মাসে। অভিযোগ তখন থেকেই অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও তার দলবল সন্তোষ লোধের কাছ থেকে টাকা চায়। তানা হলে বাড়ি মেরামত করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেয় তারা। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রায় ১২ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় সন্তোষ লোধের কাছ থেকে। টাকা না দেওয়ায় তাকে উত্ত্যক্ত করাও শুরু করে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের লোকজন। অগত্যা পুরো বিষয়টি বৃদ্ধ সন্তোষবাবু পুলিশকে জানান। জানান তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। সূত্রের খবর, সুদীপবাবু বিষয়টি বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তকে জানান। সব্যসাচীবাবু তখনই বিধাননগরের সিপিকে দ্রুত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এদিকে এধরণের তোলাবাজি, হুমকিতে বিব্রত সন্তোষবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েন। শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে এদিন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে এদিনও সন্তোষবাবুর পরিবারের তরফে তাঁর মেয়ে বিধাননগর কমিশনারেটে ফের অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এলাকার বাসিন্দাদের অনেকের অভিযোগ অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের লোকজন শুধু সন্তোষবাবু বলেই নয়, এলাকার বিভিন্ন বাসিন্দাদের ওপর জুলুমবাজি চালিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই তোলাবাজিতে তাঁরা অতিষ্ঠ। এদিন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সল্টলেকের বাসিন্দারা। এদিকে বিধাননগর পুর নির্বাচনের সময় সল্টলেকে যে গণ্ডগোলের খবর সামনে এসেছিল তাতেও নাম জড়িয়েছিল অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের। এদিন তোলাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করল পুলিশ।