
অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন সারদা মামলায় জেলবন্দি মদন মিত্র। শুক্রবার ৩০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বণ্ডে তাঁকে জামিন দেয় আদালত। আলিপুর আদালতের বিচারক এদিন জানান, জামিনে মুক্তির পর মদন মিত্রকে তাঁকে পাসপোর্ট স্থানীয় থানায় জমা রাখতে হবে। সপ্তাহে একদিন করে সিবিআই দফতরে হাজিরাও দিতে হবে তাঁকে। কিন্তু যে প্রভাবশালী তত্ত্বের যুক্তিকে সামনে রেখে সিবিআই বারবার মদন মিত্রের জামিনের বিরোধিতা করছিল তাকে মান্যতা দেয়নি আদালত। দীর্ঘদিন তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছেনা বলেও জানায় আদালত। গত বৃহস্পতিবার সিবিআইয়ের তরফে মদন মিত্রের জামিনের আর্জির বিরুদ্ধে তাঁর প্রভাবের কথা আদালতে তুলে ধরা হয়। পাল্টা মদন মিত্রের আইনজীবীদের দাবি ছিল মদনবাবু বর্তমানে না একজন মন্ত্রী, না বিধায়ক। তিনি এখন আর পাঁচজনের মতই সাধারণ মানুষ। ফলে তাঁর প্রভাবশালী হওয়ার তত্ত্বকে মেনে নেওয়া যায়না। তাই তাঁকে জামিন দেওয়া হোক। দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর সেদিনের মত রায়দান স্থগিত রাখেন বিচারক। অবশেষে শুক্রবার মদন মিত্রকে জামিনে মুক্তির কথা ঘোষণা করেন তিনি। এদিন জামিন মিললেও নিয়মকানুন মেনে মদন মিত্রের জেল থেকে বার হতে শনিবার হয়ে যাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এদিকে আলিপুর আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে সিবিআই। রায়ের কপি হাতে পাওয়ামাত্রই তাঁরা হাইকোর্টে যেতে পারেন। প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর মদন মিত্রকে সারদা মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর নিম্ন আদালত তাঁর জামিনের আর্জি মেনে নেয়। কিন্তু তার ২০ দিন পর ১৯ নভেম্বর, ২০১৫-এ সেই জামিন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ফলে ফের গারদের পিছনে ফিরে যেতে হয় মদন মিত্রকে। পুজোর আগে মদন মিত্রের জামিনে খুশি তাঁর দল তৃণমূলও। তৃণমূলের তরফে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁরা খুশি। দল মদন মিত্রের পাশে আছে। এদিন মদন মিত্রের মুক্তির খুশিতে অকাল হোলি শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন প্রান্তে। সবুজ আবীরে রঙিন হয়ে ওঠেন তৃণমূল কর্মী সহ মদন মিত্রের অনুগামীরা।