
খোলা জানলাটা দিয়ে হঠাৎই একটা চেনা ঠান্ডা হাওয়া কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যেতেই আঁচ পাওয়া গিয়েছিল তার আগমন বার্তা। এর ঠিক আধমিনিটের মধ্যেই শহর কলকাতার যাবতীয় ধুলো থেকে প্যাকেট কুণ্ডলী পাকিয়ে এপাড়া থেকে ওপাড়া ঘুরে বেড়াল নিমেষে। ঘড়িতে রাত ৯টা হলেও গরমের রাতে অলিগলি-রাজপথে ভিড় নেহাত কম ছিলনা। কালবৈশাখীর দাপুটে হাওয়ায় তারাও তখন বেসামাল। মনে খুশির তাণ্ডব লুকিয়েই সকলে ছুট মারল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। চেনা কালবৈশাখীকে বৈশাখের শেষপ্রান্তে এসে খুঁজে পাওয়াটা নেহাতই যাদুস্পর্শের মতনই ঠেকেছে তাদের। সব আশা ছাড়ার পরে আচমকা উইকএন্ডের শুরুর রাতে এমন এক দুর্দান্ত পাওনায় শহর তখন নাচছে। সেই সময়ই আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি দিয়ে নামল বৃষ্টি। মুহুর্তে শহর ভিজে জাপ। মানুষ থেকে পাখি, গাছপালা থেকে বাড়িঘর, ছাদ থেকে চিলেকোঠা দুহাত বাড়িয়ে সব ভুলে তখন শুধু ভেজার পালা। সিক্ত দেহটার কান ঘাড় দিয়ে তখন বেড়িয়ে আসছে তপ্ত স্রোত। বৃষ্টিটা নেহাত কম হয়নি। তাও নয় নয় করে মিনিট চল্লিশেক তো হবেই। মাত্র ১ ঘণ্টা আগের শহরটাকে চেনাই দায়। প্লটটা কয়েকদিন ধরেই লেখা চলছিল। স্মার্ট ফোনের বিভিন্ন ওয়েদার উইজেট আশার বাতাবরণও তৈরি করেছিল দু-তিন দিন ধরে। কিন্তু সেই অতিপ্রত্যাশিত থান্ডারস্টর্মের দেখা মিলছিল না। অন্যদিকে আবহাওয়া দফতর রাজ্যের অন্যান্য অংশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও শহর কলকাতাকে বাদের খাতাতেই রেখেছিল। সেই আক্ষেপ এদিন সুদেআসলে মিটিয়ে দিয়েছেন মেঘবালিকারা।