
গত মঙ্গলবার রাত থেকেই শহরে আসতে শুরু করেছিলেন মানুষজন। বুধবার দিনভরই শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে মানুষ এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে। ভিড় বেড়েছে যুবভারতীতে। যাতে মঞ্চের সামনের দিকে থাকা যায় সেজন্য অনেকে মঞ্চের সামনে জায়গা রেখে রাস্তায় রাত কাটিয়ে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সেই ভিড় ক্রমশ বাঁধ ভেঙেছে। সকাল থেকে কাতারে কাতারে মানুষ হাজির হয়েছেন ধর্মতলা চত্বরে। শিয়ালদহ, হাওড়ায় এক একটা ট্রেন এসে থেমেছে আর তা থেকে মানুষের ঢল নেমেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে লাক্সারি বাস, রুটের বাস, মাটাডোর ভাড়া করে শহরে হাজির হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। বেলা যত গড়িয়েছে ক্রমশ ভিড় ধর্মতলা ছাড়িয়ে পার্ক স্ট্রিট পেরিয়ে পৌঁছে গেছে আরও পিছনে। সকলের মধ্যেই ছিল উৎসবের মেজাজ।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ২১শে জুলাই। উন্মাদনায় সেটা বোধহয় এদিন অনুঘটকের কাজ করেছে। এদিন সাধারণ সাজে তৃণমূলের পতাকা হাতে যেমন মানুষ হাজির হয়েছেন, তেমনই হাজির হয়েছেন রংবেরঙের সাজে। কেউ গোটা শরীরটাকেই তৃণমূলের পতাকার রঙে রাঙিয়ে নিয়েছিলেন, তো কেউ ছিলেন রাক্ষসের পোশাকের ঢাকা, কারও বা মাথায় রঙিন টুপি, কেউ ঢাকের তালে নেচেই চলেছেন, কেউ আবার থার্মোকলের তৃণমূল প্রতীক হাতে গলা চড়িয়েছেন বন্দেমাতরম ধ্বনিতে।
রঙে, বৈচিত্রে ক্রমশ ধর্মতলা চত্বরটাই ঢাকা পড়েছে মানুষের হর্ষে, আনন্দে। এদিনের এই মানুষের সুনামিই বুঝিয়ে দিল কেন রাজ্যের ২১১টা বিধানসভা কেন্দ্রে শুধুই ঘাস ফুলের জয়জয়কার।