
পশ্চিমবঙ্গের পর এবার ত্রিপুরা থেকেও সিপিএমকে উৎখাত করার ডাক দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরার রাজধানী শহর আগরতলার আস্তাবল ময়দানে এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতন। সোমবার থেকেই সাজসাজ রব শুরু হয়েছিল শহরজুড়ে। এদিন সকাল থেকে অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনে শুরু হয় নাচ, গান। ছিল উৎসবের মেজাজ। বেলা যত গড়িয়েছে ততই ভিড় মাঠ ছাড়িয়ে উপচে পড়েছে মাঠের বাইরে। বেলা ২টো নাগাদ বক্তব্য রাখতে ওঠেন মমতা। রাজ্যের বিশাল সংখ্যক আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে এদিন আদিবাসী উন্নয়নের ডাক দেন তিনি। তুলে ধরেন ত্রিপুরায় চিকিৎসা পরিষেবার দৈনদশাকেও। রাজ্যে ক্ষমতাসীন সিপিএম সরকার ত্রিপুরাকে কেবল চিটফান্ড, সন্ত্রাস আর অনুন্নয়ন উপহার দিয়েছে বলে দাবি করে মমতা রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেন। মমতার দাবি ত্রিপুরায় চাকরি নেই, শিল্প নেই, ভাল কলেজ পর্যন্ত নেই, আছে শুধু ভাঁওতা, কুৎসা আর ষড়যন্ত্র। যাকে হাতিয়ার করে ত্রিপুরায় সরকার চালাচ্ছে সিপিএম। বাংলায় যতদিন বাম সরকার ছিল ততদিন রাজ্যের কোনও উন্নতি হয়নি বলে দাবি করে মমতা। ২০১৮-এ ত্রিপুরায় বিজয় উৎসব করার আগাম ঘোষণাও এদিন করে দেন তৃণমূলনেত্রী। ত্রিপুরায় প্রধান বিরোধীপক্ষ কংগ্রেস। সেই কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের গোপন আঁতাতের অভিযোগ করে বাম ও কংগ্রেস দুই দুর্গেই ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করেন তিনি। মমতার তোপ থেকে এদিনও রেহাই পায়নি বিজেপি। বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, হরে রাম হরে কৃষ্ণ করে আসলে ভোট ব্যাঙ্ক ভরানোর রাজনীতি করছে বিজেপি। বিজেপি সরকার কোনও কাজ করেনা বলে অভিযোগ করে মমতা বলেন, জিএসটি বিলও তৃণমূলই সংসদে পাশ করিয়ে দিয়েছে। বিজেপি বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার চেষ্টা করলেই তাদের এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।