
আনুষ্ঠানিকভাবে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করলেন কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। মানসবাবু জানান, তাঁর কাছে কমিটির চেয়ারম্যান পদের জন্য চিঠি পাঠান বিধানসভার জয়েন্ট সেক্রেটারি। সেই চিঠি পাওয়ার পর তিনি বিধানসভার এসে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে পিএসি-র চেয়ারম্যান পদের প্রাপ্তি স্বীকার করেন। কিছুক্ষণ কথা হয় দুজনের। কিন্তু এই পদ না নেওয়ার জন্য তাঁকে প্রদেশ সভাপতি থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা সকলে অনুরোধ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও এই পদের প্রাপ্তি স্বীকার কেন? এ প্রশ্নের জবাবে মানসবাবু জানান, পিএসির চেয়ারম্যান পদের জন্য আবেদনের ফর্মে তাঁকে দিয়ে সই করিয়েছিলেন স্বয়ং বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানই। এরপর তাঁর কানে আসে ওই পদের জন্য সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীকে বেছে নিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু সুজন চক্রবর্তীকে ওই পদের জন্য বেছে নিতে গেলে তা বৈঠকে হওয়া দরকার। কিন্তু মানসবাবুর দাবি কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের এমন কোনও বৈঠক হয়নি। ফলে বৈঠকে কাউকে বেছে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনি। যেদিন অধ্যক্ষ তাঁর নাম পিএসির চেয়ারম্যান হিসাবে ঘোষণা করেন সেদিন তাঁকে পাশ থেকে পদটি গ্রহণ না করার কথা স্পষ্ট করে জানাতে বলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। মানসবাবুর দাবি তিনি বলেন, অধ্যক্ষ যেখানে ঘোষণা করেছেন সেখানে এভাবে না বলা যায়না। বরং এ বিষয়ে তিনি বিরোধী দলনেতাকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। যদিও সে আহ্বানে আবদুল মান্নান সাড়া দেননি বলে দাবি করেন মানসবাবু। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁকে এসএমএস করেছিলেন বলেও এদিন মেনে নেন তিনি। তাঁর দাবি, অধীরবাবুকেও তিনি জানিয়েছেন সুজন চক্রবর্তীকে পিএসির চেয়ারম্যান করার কথা কোনও বৈঠকে ঠিক হয়নি। মানসবাবুর যাবতীয় অভিযোগের আঙুল এদিন ছিল আবদুল মান্নানের দিকেই। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নিয়ে এআইসিসি এবং অধীর চৌধুরীকে বিভ্রান্ত কররা হচ্ছে। আর এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন আবদুল মান্নান। এ নিয়ে বিতর্ক উস্কে তাঁকে অসম্মান করা হচ্ছে বলেও এদিন দাবি করেন মানসবাবু। সবংয়ের বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মানস ভুঁইয়া এদিন জানিয়েছেন তিনি ২ দিনের জন্য শহরের বাইরে যাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মানসবাবু পিএসির চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করে বাইরে চলে গেলেন। আর বল ফেলে গেলেন কংগ্রেসের কোর্টে। এখন কংগ্রেস কি করবে তা তাদেরই ভাবতে হবে। সূত্রের খবর, পিএসির চেয়ারম্যান পদ গ্রহণের পর মানস ভুঁইয়াকে দল থেকে বহিষ্কার না করে সাসপেন্ড করার কথা ভেবে দেখছে দল।