
ইংরাজি মাতৃভাষা নয়। অথচ সেই ভাষাতেই অনর্গল কথা বলত মহম্মদ আফরোজ আলম শাহ। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময়েও ইংরাজি ভিন্ন অন্য ভাষায় কথা বলত না সে। বছর ১৮-র কিশোরের ধারণা ছিল, যারা ইংরাজি বলতে পারেনা, তারা প্রকৃত শিক্ষিত নয়। অভিযোগ, কিশোরের এমন চিন্তাভাবনা মনে মনে খাপ্পা করে তুলেছিল তার বন্ধু মহম্মদ আমির আব্দুল ওয়াহিদ রহিনকে। মুম্বইয়ের শাহুনগর এলাকায় ২ বন্ধুর বাড়ি। ইংরাজিতে বেশি কথা বলায় বন্ধুকে উচিত শাস্তি দিতে তাই মারাত্মক ফন্দি আঁটে রহিন। বুধবার ইংরাজি বিজ্ঞ বন্ধুকে জব্দ করার মস্ত সুযোগ হাতে আসে তার। ওইদিন রাতে মদ খাওয়ানোর নাম করে বন্ধুকে বান্দ্রায় নিয়ে যায় রহিন। দুজনে মিলে একসঙ্গে বিয়ার পান করে। কিছুক্ষণ পর মহম্মদ আফরোজ টয়লেটে গেলে তার পিছু ধাওয়া করে সে। সুযোগ বুঝে নেশার ঘোরে থাকা বন্ধুর উপর চড়াও হয় রহিন। নেশাচ্ছন্ন বন্ধুকে প্রবল আক্রোশে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে সে। ৫৪ বারের আঘাতে বন্ধুর গলা ছুরিতে ফালাফালা করে দেয় রহিন। মৃত্যু সুনিশ্চিত করাই ছিল উদ্দেশ্য। তারপর কাজ হাসিল করে বাড়ি ফিরে আসে রহিন।
পুলিশের দাবি, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার সময় এক তরুণ থানায় ঢুকে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশকে সে আগেরদিন রাতে বন্ধুকে খুন করার রুদ্ধশ্বাস কাহিনি খুলে বলে। সব শুনে থ বনে যান থানায় উপস্থিত পুলিশকর্মীরা। হতভম্ব ভাব কাটিয়ে ঘটনার তদন্তে নামেন তাঁরা। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বুধবার রাতে ঘণ্টাখানেক পর স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়ে যায় তরুণের রক্তাক্ত দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এরপরেই অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ।