
চারদিক প্রখর দাবদাহে পুড়ছে। তারসঙ্গে চরম জলাভাব। একবিন্দু জলের জন্য গোটা গ্রামটা হাহাকার করছে। তবু পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে একটু জল তুলে দেওয়ার জন্য আগুন ঝরানো সূর্যকে উপেক্ষা করে বারবার টিউবওয়েলের কাছে ছুটে যাচ্ছিল ১২ বছরের মেয়েটি। হায় কপাল! সেখান থেকে জলের একটা বিন্দুও পড়ছিল না। তবু শেষ আশা তো ওটাই। তাই গরম মাথায় করেই বিভিন্ন সময়ে টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল ধরে নাড়া দিয়েছিল মহারাষ্ট্রের সবলখেদ গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী যোগিতা অশোক দেশাই। জলের জন্য নিজের গলাও তখন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এক পা এগোতে গেলেও শরীরটাকে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। সেই অবস্থায় বিকেলের দিকে পঞ্চমবার টিউবওয়েলের কাছে পৌঁছয় সে। তাপমাত্রার পারদ তখনও ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টিউবওয়েলের হ্যান্ডেলে চাপ দিয়ে আর শরীরটাকে ধরে রাখতে পারেনি যোগিতা। ডিহাইড্রেশনের শিকার শরীরটা লুটিয়ে পড়ে খরা আক্রান্ত শুকনো ফুটিফাটা জমিতে। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হিটস্ট্রোক বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কেবল নিজের তৃষ্ণা নিবারণই নয়, একটা ১২ বছরের মেয়ের পরিবারের অন্যদের প্রতি ভালবাসা দেখে বহু মানুষের চোখ জলে ভরেছে। মর্মান্তিক এই মৃত্যু কেবল একটা ঘটনা নয়, একটা পরিস্থিতির জলজ্যান্ত উদাহরণ। তারপরেও কী সত্যিই খরা কবলিত গ্রামগুলোতে জল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। শুধু জলের ওয়াগান পাঠালেই যদি সব মানুষকে বাঁচানো যেত তাহলে বোধহয় ১২ বছরের এই মেয়েটিকে দিনে পাঁচবার সূর্য মাথায় করে টিউবওয়েল থেকে জল পাওয়ার ব্যর্থ প্রয়াস করতে হতনা। শুধু একটু জলের জন্য এভাবে অকালে চলে যেতে হতনা এই ছোট্ট প্রাণটাকে।