National

সামনেই ছিল ৮০০ বছরের পুরনো দুর্গ, নজরে পড়ল এতদিনে

সামনেই বিশাল এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য হিসাবে ৮০০ বছরের নানা ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছিল দুর্গটি। কিন্তু এতদিন পর সেটির দিকে নজর গেল।

এ দুর্গের বয়স ৮০০ বছর পার করেছে। এরমাঝে বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে সে। এমনকি পণ হিসাবে কন্যাপক্ষের হাত থেকে বরপক্ষের কাছেও গিয়েছে তার মালিকানা। কন্যাপক্ষ হিসাবে পর্তুগিজ সম্রাট ভারতের এই দুর্গটি মেয়ের বিয়েতে পণ হিসাবে দান করেছিলেন বরপক্ষ ইংল্যান্ডের রাজা কিং চার্লস ২-কে।

সেটা ছিল ১৬৬১ সাল। তারপর সময়ের হাত ধরে কত ইতিহাসই লেখা হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর ভারতের এই বিখ্যাত দুর্গটি কিন্তু নিজের মত করেই দাঁড়িয়েছিল।


ক্রমে সেখানে গৃহহীন মানুষজন অস্থায়ী কুঁড়েঘর বানিয়ে থাকতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সেই প্রবণতা এতটাই বেড়ে যায় যে এই দুর্গটি একটি বস্তির আকার নেয়।

তারপরেও কিন্তু প্রশাসন ছিল নির্বিকার। ঐতিহাসিক এই স্থাপত্য ক্রমে নষ্ট হতে থাকে। এ দুর্গ আরবসাগরের ধারে অধুনা মুম্বইয়ের মাহিমে অবস্থিত। মাহিম দুর্গ নামেই বিখ্যাত এটি।


দুর্গ লাগোয়া সমুদ্রতট। যা বেড়ানোর জন্য আদর্শ। কিন্তু সবই এতদিন ধরে পড়েছিল অবহেলায়। চোখের সামনে নষ্ট হতে বসা সে দুর্গের দেখভালের কথা এতদিনেও মনে হয়নি প্রশাসনের।

অবশেষে এই ৮০০ বছরের ইতিহাসের দিকে নজর গেল মুম্বইয়ের বৃহন্মুম্বই পুরসভার। দুর্গটি থেকে ৫০০টি ঝুপড়ি সরিয়ে নিয়ে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দিয়ে এবার দুর্গ সংস্কারে হাত দিচ্ছে তারা।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র দায়িত্বে থাকা এ দুর্গটির সংস্কার করা হলে তার চেহারা বদলে যাবে। বাঁচবে ইতিহাস। মুম্বই পর্যটন মানচিত্রেও এই মাহিম দুর্গ একটা জায়গা করে নেবে।

দুর্গ সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গের সামনের মাহিম সমুদ্রতটও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবটা হয়ে গেলে এই মাহিম দুর্গ ও মাহিম সমুদ্রতট পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হবে বলেই মনে করছেন সকলে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button