স্বাদে এভাবেও ফিরে আসা যায়, দেখিয়ে দিলেন জুলি
আসলে ফিরে আসার অদম্য উৎসাহটা চাই। তাহলেই বোধহয় ফিরে আসা যায়। যা কেবল কথার কথা নয়। উদাহরণ হিসাবে সামনে এলেন জুলি।

২০২০ সালের দুঃসহ স্তব্ধ জনজীবন গোটা দুনিয়াটা বদলে দিয়েছিল। বহু মানুষের হেসে খেলে চলা জীবন অন্ধকারে ডুবিয়ে দিয়েছিল এক ভয়ংকর ব্যাধি। যার দাপটে বহু পরিবার চরম দারিদ্রের কবলে পড়ে। এভাবেই এক ব্যক্তির চটির দোকানটি যায় বন্ধ হয়ে।
প্রথমে কমতে শুরু করেছিল বিক্রি, তারপর ২০২১ সালের শেষের দিকে একেবারেই বন্ধ হয় দোকান। পরিবারে আর্থিক অনটন চরমে পৌঁছে যায়। একটা কিছু তো করতে হবে রোজগারের জন্য। কিন্তু কি করবেন! গৃহবধূ জুলি পাশে এসে দাঁড়ান ওই যুবকের।
ভরসা দেন তিনি নিজেই কিছু করবেন। কি করবেন? জুলি ভাল আচার বানাতে পারেন। তাহলে কেন আচারের ব্যবসা নয়! ভাবার সঙ্গে সঙ্গেই জুলি তাঁদের ভাড়া বাড়ির এক চিলতে জায়গাতেই শুরু করেন আচার তৈরি করা। তারপর সেই আচার স্থানীয়ভাবে বিক্রি করা।
প্রথম ১ বছরে আচার বিক্রি সেভাবে জমেনি। সব মিলিয়ে ১ বছরে বিক্রি হয়েছিল ৫০ হাজার টাকার আচার। তবে জুলি থেমে যাননি। আর সেই না থামার হাত ধরে ক্রমে বাড়তে থাকে তাঁর আচারের চাহিদা। গ্রামের গণ্ডি পার করে তা শহরে পৌঁছে যায়।
লাল লঙ্কার আচার থেকে শুরু করে, পাঁচমিশেলি আচার, আমলকির আচার, কাঁচা লঙ্কার আচার, এঁচোড়ের আচার, তেঁতুলের আচার, সেই সঙ্গে আবার বিরিয়ানি দিয়ে খাওয়ার জন্য এক বিশেষ আচার। এসব আচারই জুলির হাতের ছোঁয়ায় এতটাই সুস্বাদু হয়ে ওঠে যে তার বিক্রির চাকা তরতর করে গড়াতে থাকে।
বিহারের সহর্সা জেলার বাসিন্দা জুলি পরভিন এবং তাঁর স্বামী মেহতাবের এখন সচ্ছল পরিবার। মাত্র ৩ বছরে গোটা পরিবারের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দিয়েছে জুলি পরভিনের আচার। যা অন্য মহিলাদেরও রোজগারের নতুন পথ দেখাচ্ছে। অনুপ্রাণিত করছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা