
বয়স হয়েছিল মাত্র ৬৬ বছর। এখনও ভারতীয় সিনেমার হয়তো অনেক কিছু পাওয়ার ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু সে চাহিদা অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন সিটি অফ জয়ের রিক্সাচালক। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকালে মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে নিজ বাসভবনেই মারা গেলেন ওম পুরী।
১৯৫০ সালে হরিয়ানার আম্বালায় জন্ম। প্রথম থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল অসম্ভব ঝোঁক। যুবা বয়সে চলে আসেন পুনে ফিল্ম ইন্সটিটিউটে। রূপোলী পর্দাই শুধু নয়, তাঁকে সমানভাবে টানত মঞ্চ।
দিল্লি স্কুল অফ ড্রামা থেকে পাশ করে বহু নাটকে তাঁর অভিনয় বোদ্ধাদের নজর কাড়ে। ১৯৭৬ সালে ২৬ বছর বয়সে প্রথম সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন ওম পুরী। মারাঠি সিনেমা ঘাসিরাম কোতোয়াল দিয়ে সিনেমায় হাতেখড়ি। এরপর অর্ধসত্য, সদ্গতি, মির্চ মশালা, ধারাবি, জানে ভি দো ইয়ারোঁ, পার সহ বহু ভিন্নধারার সিনেমায় তাঁর নজরকাড়া অভিনয় দ্রুত তাঁকে দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতাদের তালিকায় জায়গা করে দেয়।
আরোহণ ও অর্ধসত্যে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পান ওম পুরী। এছাড়াও তাঁর ঝুলিতে অসংখ্য ভাল ছবি রয়েছে। ব্রিটিশ ছবি ইস্ট ইজ ইস্ট সিনেমার জন্য দেশের বাইরেও খ্যাতি অর্জন করেন ওম পুরী।
এছাড়া ব্রিটিশ সিনেমা মাই সন দ্যা ফ্যানাটিক বা দ্যা প্যারোল অফিসার-এ অনবদ্য অভিনয় করেন তিনি। হলিউডে বিখ্যাত অভিনেতা জ্যাক নিকলসনের সঙ্গে উল্ফ-এ, টম হ্যাঙ্কস ও জুলিয়া রবার্টস-এর সঙ্গে চার্লি উইলসনস ওয়ার-এ তাঁর অভিনয় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়োয়। পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন ওম পুরী।
তথাকথিত হিন্দি বাণিজ্যিক সিনেমাতেও চুটিয়ে অভিনয় করেছেন ওম পুরী। হেরাফেরি, মাচিস, ডন ২, চাচি ৪২০, মালামাল উইকলি, বিল্লু, মেরে বাপ পহলে আপ-এর মত বহু সিনেমায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখতে পাওয়া গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯১ সালে প্রথম বিয়ে করেন অভিনেত্রী অনু কাপুরের বোন সীমা কাপুরকে। কিন্তু সেই বিয়ে ৮ মাসেই ভেঙে যায়। ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় বিবাহ। বিয়ে করেন সাংবাদিক নন্দিতা পুরীকে। ওম-নন্দিতার এক সন্তান হয়। ঈশান।
২০০৯ সালে ওম পুরীর জীবন নিয়ে একটি বায়োগ্রাফি লেখেন নন্দিতা। সেই বইয়ের উদ্বোধনে প্রকাশ্যেই বইয়ের বেশ কিছু অংশ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন ওম। তাঁর প্রথম বিবাহ নিয়ে বেশিই লেখা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তারপর থেকেই নন্দিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকতে শুরু করে। ২০১৩ সালে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যায়।