সকাল ১১টায় শুরু হয়েছিল অধিবেশন। প্রধানমন্ত্রী বলতে উঠলেন রাত সওয়া ৯টা নাগাদ। বললেন প্রায় ১১টা পর্যন্ত। তারপর হল ভোটাভুটি। এদিন দুপুরে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর তাঁর বক্তব্যের ঝাঁঝ নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়। তাঁর আক্রমণাত্মক ভাষণে নানা বিষয় উঠে আসে। এদিন সেসব বক্তব্যের জবাব দিতে উঠে নিজস্ব ভঙ্গিতেই পাল্টা আক্রমণ হানলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রাফাল চুক্তি নিয়ে দেশকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে রাহুল যে অভিযোগ করেছিলেন তার বিরুদ্ধে এদিন কার্যতই আক্রমণাত্মক ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন রাফাল চুক্তি নিয়ে রাহুলের বক্তব্যের পরই ফ্রান্স ও ভারত সরকার চুক্তি নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রাফাল দেশের সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিষয়। গম্ভীর বিষয়। তা নিয়ে ছেলেখেলা হচ্ছে। আর তা এতটাই হয়েছে যে ২ দেশের সরকারকে এ নিয়ে বিবৃতি দিতে হল। এটা কী বাচ্চাদের খেলা নাকি?
রাহুল বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের চৌকিদার নন, ভাগীদার। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তিনি চৌকিদারও, ভাগীদারও। কিন্তু সওদাগর নন। তিনি ভাগীদার দেশের কৃষক, যুবদের স্বপ্নের, আশার, আকাঙ্ক্ষার। রাহুল দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তিনি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তাই তিনি তাঁর চোখে সত্যিই চোখ রেখে কথা বলতে পারেননা। রাহুল গান্ধী ‘নামদার’ মানুষ। আর তিনি নিজে ‘কামদার’ মানুষ।
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে রাহুল গান্ধীর আক্রমণের জবাবে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনাবাহিনীকে এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে অপমান করা হয়েছে। এদিন কৃষক কল্যাণ থেকে শুরু করে জনধন প্রকল্প, স্টার্টআপ থেকে শৌচালয় নির্মাণ, প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া থেকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রী এদিন তথ্য তুলে ধরে এসব ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরেন সংসদে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন দাবি করেন তাঁর সংখ্যা আছে বলেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁকে দেশের মানুষ ক্ষমতায় এনেছেন। এদিন কটাক্ষের সুরেই তিনি বলেন, তিনি প্রার্থনা করেন ২০২৪-এও যেন এভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা আনতে সমর্থ হন বিরোধীরা। ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দেন তাঁরা ২০১৯ কেন ২০২৪-এও ক্ষমতায় আসছেন।
কংগ্রেস নিজেদেরই বিশ্বাস করেনা বলে এদিন আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস শুধু ক্ষমতার লোভে ছুটছে। বিরোধীদের এককাট্টা করার চেষ্টা করছে। বিরোধীরাও ক্ষমতার লোভে একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে। কংগ্রেস নিজেদের এতটাই অবিশ্বাস করে যে তারা স্বচ্ছ ভারতও অবিশ্বাস করে, তারা যোগ দিবসকেও অবিশ্বাস করে, তারা রিজার্ভ ব্যাঙ্ককেও অবিশ্বাস করে, তারা নির্বাচন কমিশনকেও অবিশ্বাস করে, তারা ইভিএমকেও অবিশ্বাস করে, দাবি প্রধানমন্ত্রীর।
রাহুল গান্ধীর আলিঙ্গন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষের সুরেই বলেন কেউ এসে তাঁকে দ্রুত চেয়ার থেকে উঠতে বললেন। এত তাড়া কিসের? জনগণ তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। পাশাপাশি অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সনিয়া গান্ধী দাবি করেছিলেন যে তাঁদের কাছে যথেষ্ট সংখ্যা আছে। কে বলেছে তাঁদের সংখ্যা নেই? এদিন সেই বক্তব্যকেও কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য তৈরি নিয়েও কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় চাপান প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেস নিজেদের ফায়দা তুলতে এই রাজ্য বিভাজন করেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, যার জেরে এখনও ২ রাজ্য ভুগছে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর দেড় ঘণ্টার বক্তব্যের প্রায় পুরো সময়েই টিডিপি সংসদরা স্লোগান দিতে থাকেন।
(ছবি – সৌজন্যে – লোকসভা টিভি)