
পশ্চিমবঙ্গকে রেহাই দিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। শনিবার বিকেলের মধ্যেই তা চট্টগ্রামের ওপর আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আবহবিদেরা। বেলা ১১টা নাগাদ বাংলাদেশ উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা রোয়ানু ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতিতে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। পাশাপাশি শুক্রবার যেভাবে শক্তি বাড়িয়ে রোয়ানু আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্ট করেছিল, রাত পার করে সেই শক্তি অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। তবে এখনও যে শক্তি রয়েছে তাতে তাণ্ডবের চেহারা যথেষ্টই ভয়ংকর হবে বলে সতর্ক করেছেন আবহবিদেরা। এদিকে রোয়ানুর প্রভাবে গত দুদিন ধরেই অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও ওড়়িশায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। পুরী শহরে হাঁটুজল দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই। রোয়ানুর কারণে পুরী থেকে দিঘা, সব সমুদ্রতটেই পর্যটকদের জলে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। ঢেউয়ের উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে। এদিন সকাল থেকে সমুদ্র উত্তাল চেহারা নিয়েছে। প্রশাসনের তরফে মাইক বাজিয়ে পর্যটকদের সমুদ্র থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। এদিকে সমুদ্রে না নামলেও বহু পর্যটক সকাল থেকেই সমুদ্রের ধারে ভিড় জমিয়েছেন। সমুদ্রে জলোচ্ছাসের দৃশ্য চাক্ষুষ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে মৎসজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সবদিক থেকে তৈরি রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। আবহবিদরা মনে করছেন ঝড় বাংলাদেশের দিকে মুখ ঘোরালেও বিকেলে রাজ্যের উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে দুই ২৪ পরগনার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সঙ্গে থাকবে প্রবল বৃষ্টি। এদিন সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে।