মহাজাগতিক বিস্ময়, করোনা উদ্বেগের মধ্যেই গোলাপি চাঁদে বুঁদ মানুষ
পূর্ণিমার চাঁদ এদিন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করছে

করোনা রুখতে চলছে দেশজুড়ে লকডাউন। ঘরের বাইরে পা দেওয়া মানা। এই অবস্থায় কার্যত গোটা দেশের মানুষ গৃহবন্দি। করোনা উদ্বেগ, চিন্তার মধ্যেও মঙ্গলবার সন্ধেটা তাঁদের কিন্তু কাটল একটু অন্যভাবে। আকাশের দিকে চেয়ে।
করোনার চিন্তা ভুলে সকলেই প্রায় চোখ রাখলেন চাঁদ দেখতে গিয়ে। শুধু চাঁদ বলাটা ভুল হবে। বলা ভাল গোলাপি চাঁদ! এক মহাজাগতিক বিস্ময়!
পূর্ণিমার চাঁদ এদিন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করছে। ফলে তা যেমন বড় দেখিয়েছে। তেমনই তার রং কতকটা গোলাপি ঠেকেছে। এজন্য একে সুপার পিঙ্ক মুন বলা হয়ে থাকে।
মঙ্গলবার সন্ধে নামা থেকে বুধবার ভোর হওয়া পর্যন্ত আকাশে এই গোলাপি চাঁদ দর্শনের সুযোগ ছিল। তাই সন্ধে নামতেই আর কেউ অপেক্ষা করেননি। গোলাপি চাঁদ অবশ্য সেখানেই দেখা গেছে যেখানে আকাশ ছিল পরিস্কার।
চাঁদ তার কক্ষে ঘুরতে ঘুরতে এই সময় পৃথিবীর একটু কাছে ঘেঁষে আসে। ফলে পৃথিবীর সঙ্গে চাঁদের দূরত্ব কমে যায়। যার জেরে চাঁদকে বড় দেখতে লাগে। ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বড় লাগে চাঁদকে। সেইসঙ্গে তার গায়ে ধরে গোলাপি রংয়ের জাদু।
চাঁদের সঙ্গে পৃথিবীর সাধারণ দূরত্ব ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। কিন্তু কক্ষে ঘুরতে ঘুরতে এই সময় যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসে পড়ে তখন দূরত্ব কমে দাঁড়ায় ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯০৭ কিলোমিটার। তবে দেখতে গোলাপি হলেও চাঁদ আসলে গোলাপি হয়ে যায়না।
ভারতে যেহেতু এখন লকডাউন চলছে। অন্য কাজ তেমন নেই। ফলে এদিন গোলাপি চাঁদ দেখার উৎসাহ ছিল চরমে। অনেকেই বিকেল হতেই আকাশে উঁকি দিতে শুরু করেন। তবে ভারতে সবচেয়ে ভালভাবে এই গোলাপি চাঁদ দেখা গেছে রাত ৮টায়।