
হাতের আঙুলগুলো অল্প নড়ে উঠতেই হৈহৈ করে ছুটে এলেন কয়েকজন যুবক। তারপর রাস্তায় প্রায় শুয়ে পড়ে চেঁচিয়ে ডাকতে শুরু করলেন তাঁরা। না ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে কোনও আওয়াজ এল না। তবে রক্তমাখা আঙুলগুলো আরও একবার নড়ে উঠল। এরমধ্যেই এক যুবক এক বোতল জল নিয়ে ছুটে এলেন সেখানে। হাতটা যতটা ভিতরে ঢোকানো সম্ভব ততটা হাত ঢুকিয়েই জল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করলেন প্রাণশক্তির শেষটুকু নিংড়ে বেঁচে থাকার লড়াই দেওয়া মানুষটার কাছে। বার করে আনার তখনই কোনও উপায় নেই। কিন্তু জলটুকু পৌঁছে দিতে পারলেও যদি একটু শান্তি দেওয়া যায় চাপা পড়া মানুষটিকে। এতো একটা টুকরো ছবি। কিন্তু বিবেকানন্দ ব্রিজের ধ্বংসস্তূপের আশপাশে যেদিকেই চোখ গেছে সেদিকেই এই মর্মান্তিক ছবিই ধরা পড়েছে এদিন। আর ধরা পড়েছে উদ্ধারের সবটুকু ইচ্ছাকে বুকে চেপে অসহায়ের মত মত দাঁড়িয়ে থাকা শয়ে শয়ে মানুষ। যাঁদের অনেককে বাঁশ দিয়েও ওই লোহার বিম সরানোর বিফল চেষ্টা করে দেখেছেন। স্তূপের তলায় ঠিক কতজন চাপা পড়ে আছেন তা পরিস্কার না হলেও যেটুকু চোখে পড়েছে তাতেই শিউরে উঠেছেন অনেকে। বিমের তলা থেকে চুঁইয়ে বেরিয়ে আসা রক্তের স্রোত, আর ধ্বংসস্তূপের তলায় আটক থেকেও বাঁচার শেষ চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাওয়া, বহু মানুষের চোখই এদিন অজান্তে ভিজিয়ে দিয়েছে।