
ভোটের আগে যে অন্তরঙ্গতা দেখতে পাওয়া গিয়েছিল তা ফল বেরোতেই উধাও। বাম ও কংগ্রেস এদিন কার্যতই একে অপরের ঘাড়ে হারের দায় চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছে। চলেছে পারস্পরিক দোষারোপের পালা। বাম নেতৃত্বের একাংশ কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফ থেকে সর্বাত্মক সমর্থন ও জোটের পক্ষে তাঁদের ভোট ব্যাঙ্ককে উদ্বুদ্ধ করায় খামতির কথা তুলে ধরছেন। যদিও সেকথা সাংবাদিক সম্মেলনে বসে অনেকটা রেখে ঢেকেই প্রকাশ করেছেন বাম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি ১০ থেকে ১২টি আসনে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতা হয়েছে বলেও এদিন দাবি করেন। বিধানসভা ভোটের প্রচারলগ্ন থেকেই বাম নেতারা তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির আভ্যন্তরীণ গোপন সমঝোতার দাবি করে আসছেন। সূর্যবাবুর কথাতেই পরিস্কার যে ভোটের ফলাফলে ভরাডুবির পরও তাঁরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলেন। অন্যদিকে সূর্যকান্ত মিশ্র জোট প্রসঙ্গে দোষারোপের ক্ষেত্রে নিজেকে সংযত রাখলেও সেসবের ধার ধারেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। জোট নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, অন্য জায়গায় কথা বাদ দিয়ে শুধু যদি তাঁর মুর্শিদাবাদ জেলার কথাই ধরা হয় তবে সেখানেই অনেক আসনে জোট হয়নি। হয়েছে ত্রিমুখী লড়াই। যার পুরো ফায়দা ঘরে তুলেছে তৃণমূল। অনেক জায়গায় স্থানীয় বাম নেতৃত্বই জোটের পক্ষে প্রচার করেন নি বলেও আঙুল তুলেছেন তিনি। জোটের পাশাপাশি রাজ্যে বাম ও কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও হারের জন্য কাঠগড়ায় চাপিয়েছেন এই দুঁদে কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, রাজ্যে আগে মানুষ আর মাসলম্যান দিয়ে ভোট হত। এবার তাতে অর্থও যোগ হয়েছে। তৃণমূল এবার ভোটের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। যা নিজেদের প্রভাব বিস্তারে যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে তৃণমূল।