
কাগজ কারখানার ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাস কেড়ে নিল ৬ শ্রমিকের প্রাণ। মৃতেরা হলেন অশোক বোড়াল, বিজয় বর্মা, অমিত যাদব, উদয় রাজ, মিঠুন প্রজাপতি ও মহম্মদ নাজিম। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির হাজিনগরের একটি পেপার মিলের শ্রমিক ছিলেন তাঁরা। পেপার মিল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা মিলের পাম্পে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। যার জেরে কারখানার অন্যান্য কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মিলের শ্রমিকদের দাবি, কি নিয়ে সমস্যা তা দেখতে বর্জ্যে ভর্তি কুয়োতে প্রথমে দড়ি ধরে নামেন উদয় রাজ ও মিঠুন প্রজাপতি। পুলিশের অনুমান, কুয়োয় নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধী রাসায়নিক গ্যাসে সম্ভবত অসুস্থ হয়ে পড়েন ২ শ্রমিক। ফলে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁরা কুয়োর নোংরা জলে পড়ে যান। ওই ২ শ্রমিককে বাঁচাতে সম্ভবত প্রাণের তোয়াক্কা না করে ট্যাঙ্কের নিচে নেমে যান বাকি ৪ জন। ফলে ট্যাঙ্কের ভিতর বিষাক্ত গ্যাসে তাঁরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সংজ্ঞা হারান। যার জেরেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলে মনে করছে পুলিশ।
মিলের শ্রমিকদের দাবি, অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও ৬ জনের কাউকে ট্যাঙ্ক থেকে বার হতে না দেখে তাঁরা খবর দেন মিল কর্তৃপক্ষকে। তাঁরাই ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন দমকল ও পুলিশকে। ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে সংজ্ঞাহীন শ্রমিকদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে পরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মিলের বাকি শ্রমিকদের মধ্যে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় ন্যূনতম পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে কাজ হয়ে আসছে। যার মাশুল ৬ শ্রমিককে দিতে হল বলে দাবি বাকি শ্রমিকদের। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।