
হিন্দি ছবি হলে হয়তো সময়ের ফারাকটা ২০ বছর হত। কিন্তু কঠোর বাস্তবে ফারাকটা ২ সপ্তাহের। বাদবাকিটা রূপোলি পর্দার তথাকথিত গাঁজাখুরি গল্পের বাস্তবায়ন। দু’সপ্তাহ আগে যাকে মৃত বলে জেনেছিল পরিবার, দশম শ্রেণির সেই ছাত্র ফিরে এল এদিন। শুক্রবার সকালে ইনামুল পুরকায়েতকে হাওড়ার নলপুর স্টেশনে ঘুরতে দেখেন তার পিসি। তিনি ইনামুলকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে মেডিক্যাল টেস্টের পর বাড়ি ফিরিয়ে আনে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ইনামুল কোনও কথা বলছে না। কোনও কিছুরই কোনও জবাব দিচ্ছে না সে। পুলিশ সূত্রের খবর, ইনামুল মুখ খুললে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। জানা যাবে তাকে গঙ্গায় ঠেলে ফেলার পর কি হয়েছিল? এতদিন কোথায় ছিল সে? গত ২৮ জুলাই ত্রিকোণ প্রেমের জেরে গঙ্গার ধারে নিয়ে গিয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র ইনামুলকে প্রথমে মদ খাইয়ে তারপর গঙ্গায় ঠেলে ফেলে দেয় তার বন্ধু। অনেক খুঁজেও তখন ইনামুলের দেহ পাওয়া যায়নি। কয়েকদিনেও দেহ না মেলায় পরিবারের সকলে ধরেই নেয় ইনামুল মৃত। পুলিশেও সেটাই ধরে নেয়। গ্রেফতার হয় অভিযুক্ত কিশোর। জেরার মুখে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে নেয় বন্ধুকে গঙ্গায় ঠেলে ফেলার কথা। ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাকে হোমে পাঠান হয়। তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা চলছে। কিন্তু ইনামুলের আশ্চর্য প্রত্যাবর্তনের পর সেই মামলার ধারা পরিবর্তন নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে পুলিশ।