
ধৈর্যের লড়াইয়ে নেমেছেন মানস ভুঁইয়া ও কংগ্রেস। কে কতক্ষণ মাথা ঠান্ডা রেখে অন্যের কোর্টে বল ফেলে খেলে যেতে পারে তারও বোধহয় একটা ছায়াযুদ্ধ শুরু হয়েছে দু’তরফে। এদিন প্রদেশ সভাপতির বক্তব্য থেকে অন্তত তেমনটাই মনে হয়েছে রাজনৈতিক মহলের। অধীর চৌধুরীর ডাকে পরিষদীয় দলের বৈঠকে এদিন উপস্থিত ছিলেন না মানস ভুঁইয়া। শুক্রবারই দলের মত অগ্রাহ্য করে পিএসির চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করে দু’দিনের জন্য শহর ছেড়েছেন মানসবাবু। ফলে এদিনের বৈঠকে তিনি থাকতে পারেননি। যদিও অধীরবাবুর দাবি মানস ভুঁইয়ার পরামর্শেই তিনি এদিনের বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠক শেষে এদিন প্রদেশ সভাপতি মানস ভুঁইয়াকে পিএসি-র চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন এর অন্যথা হলে হাইকমান্ড ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি নরমপন্থা নিতেও ভোলেননি তিনি। তাঁর দাবি, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় মানসবাবু ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন তিনি। অধীরবাবু এদিন খোলাখুলিই জানান যে মানস ভুঁইয়ার যদি মনে হয় তিনি বা আবদুল মান্নান ভুল করেছেন তবে তা হাইকমান্ডকে জানানোর রাস্তা খোলা আছে। তিনি হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগ জানাতেই পারেন। কিন্তু এভাবে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা অগ্রাহ্য করে ঠিক করছেন না মানসবাবু। অধীরবাবুর দাবি, মানস ভুঁইয়া এই নিয়োগে নানান নিয়মের কথা বলে আসল বিষয়টিকে ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই হলে ওই হবে বলছেন। কিন্তু আসলে কোনও কিছু হলেই কিছু হয়না বলে দাবি করেছেন প্রদেশ সভাপতি। তাঁর দাবি কংগ্রেস হাইকমান্ড যা চাইবেন তাই হবে। যদিও এতকিছুর পরও এদিন মানসবাবুর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রদেশ কংগ্রেস। আগামী ১৫ জুলাই ফের বর্ধিত কমিটির বৈঠক ডেকেই এদিনের মত বিষয়ে ইতি টেনেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।